দেশি মুরগী পালনে লাভ কত
দেশি মুরগি মাংস এবং ডিম অন্য জাতের তুলনায় স্বাদযুক্ত এবং বেশি মজাদার হওয়ার কারণে, তাদের পালন করা হলে কম টাকা ইনভেস্ট করে বেশি আয় করা সম্ভব। তাদের ডিম অন্য মুরগি ডিমগুলি থেকে ছোট হওয়া সাথে তাদের ডিম ও মাংশের দাম বেশি থাকে। লেখাপড়া বা চাকরির পাশাপাশি নিজ বাড়িতে এই দেশি মুরগির খামার গড়ে তুলা যেতে পারে, যা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই সম্ভব। এটি পালনে রোগ বালাই ও কম তাই ধারণা থাকলে সমস্যা বা রোগ বালাই দমন করা যায়।
দেশি মুরগির খাবারের অংশ হিসেবে বাড়ির প্রতিদিনের বাড়তি বা বাসী খাদ্যে ফেলে দেওয়া ভাত, তরকারি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গম, ধান, পোকামাকড়, শাক সবজির ফেলে দেওয়া অংশ, ঘাস, লাতা পাতা, কাঁকর, পাথর কুচি ইত্যাদি হতে পারে। এই খাবারে মুরগির পুষ্টি পূরণ হয় এবং তারা সুস্থ্য থাকে।
দেশি মুরগী লাভজনক ব্যবসা
মুরগির পায়খানা বা বিষ্ঠা জৈব সারের একটি ভালো উৎস। মুরগি চরানোর সময়, মুরগি পোকা মাকড়কে খেয়ে থাকে তাই তাদের বেশি বাড়তি খাদ্য দিতে হয় না। এতে মুরগি মালিকের কম খাদ্য লাগে এবং খরচ ও কম হয়। বাজার সম্ভাবনা স্থানীয় বাজার ছাড়াও বড় বাজারে এই দেশি মুরগি বিক্রি করা যায়। মুরগির ডিম প্রতিবেশী, স্থানীয় দোকান বা বাজারে পাইকারি বা খুচরা বিক্রি করা যেতে পারে।
দেশি মুরগি পরিচর্যার
দেশি মুরগি পরিচর্যার জন্য সময় বা লোকজনের তেমন দরকার পড়ে না, তারপরও কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। সকালে মুরগির ঘর খুলে কিছু খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যায় মুরগি ঘরে ওঠার আগে আবার কিছু খাবার দিতে হবে। ঘরে উঠলে দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।
মুরগির পায়খানা ঘরের মেঝেতে যেন লেপ্টে না যায় সেজন্য ঘরের মেঝেতে ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া ২.৫ সে.মি. (১ ইঞ্চি) পুরু করে বিছাতে হবে। পায়খানা জমতে জমতে শক্ত জমাট বেঁধে গেলে বারবার তা উলট-পালট করে দিতে হবে এবং কিছুদিন পর পর পরিষ্কার করতে হবে। এ পদ্ধতিতে দেশি মোরগ পালন করা গেলে প্রায় তেমন কোন খরচ ছাড়াই ভাল একটা মুনাফা পাওয়া যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন