ছাগল পালন একটি লাভ জনক ব্যবসা । অনেকেই ছাগল পালন করে অর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হয়েছে। নিচে ছাগল পালনের কিছু বিবরণ দেওয়া হলো। আশাকরি সবার ভালো লাগবে।
ছবি : সংগৃহিত
সর্বাধিক জনশ্রুত সনাতন প্রবাদ থেকে আজ অবধি ধারণ করা হয়, যে ছাগল সব ধরনের খাদ্য সামগ্রী খেয়ে জীবনধারণ করতে পারে। আধুনিককালে গবেষণা কর্মকাণ্ড আর বাস্তব নিরক্ষর তথ্যভিত্তিক পালন ব্যবস্থা প্রয়োগ যোগ্য ফলাফল থেকে প্রমাণিত যে, ছাগল নিজের সুস্বাস্থ্য রক্ষা, বেঁচে থাকার প্রবণতা আর মুখরুচির বৌধশক্তি অনুসারে সব সময় সব ধরনের ( প্রচলিত বা অপ্রচলি) বস্তু সামগ্রী (দানাদার,অদানাদার, বিষাক্ত, রসালো শুকনা, ইত্যাদি) আহারের বস্তু হিসেবে সচরাচর গ্রহণ করে না। একইভাবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক অবস্থানগত অস্বাস্থ্যকর বাসস্থানের অরুচি কর সামগ্রী গ্রহণ করেছস দের অভাবে জীবনধারণ বাচ্চা প্রদান দুগ্ধ দান এবং বংশবিস্তার করতে পারে না। অতি সামান্য খরচে সাধারণ বিধবা কিংবা সধবা মহিলাদের দ্বারা লাভজনকভাবে ছাগল পালন সম্ভব বিধায় ছাগলকে বিধবার গাভী বলা হয়।
কবুতর পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
ছাগল পালন পদ্ধতি
বাংলাদেশের ছাগল অন্যতম গৃহপালিত পশু। ছাগী ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে বাচ্চা ধারণক্ষমতা অর্জন করে। এটি একসাথে ২-৩ টি বাচ্চাদের কারণে কিছুতো নেকেড খুব জনপ্রিয় একটি ছাগল। খাঁটি সরকার ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ কেজি হয়ে থাকে। ছাগলের মাংস খুব সুস্বাদ। তাই বাজারে ছাগলের অনেক চাহিদা রয়েছে। ছাগলকে গরিবের গাভী বলা হয়। কারণ গাড়ি পালনের জন্য প্রাথমিক মূলধন বাসস্থান ও খাদ্য বেশি লাগে। প্রচলিত পদে ছাগল পালন গ্রামের ছাগলকে মাঠে বাগানে রাস্তার পাশে বেঁধে বা ছেড়ে দিয়ে পালন করা হয়। সাধারণত ছাগলকে বাড়ি থেকে কোন বাড়তি খাদ্য সরবরাহ করা হয় না। কৃষক বর্ষাকালে বিভিন্ন গাছের পাতা কেটে সকলকে খেতে দেয় রাতের ছাগলের নিজের থাকার ঘর বা অন্য কোন ঘরে আশ্রয় দেয়। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ছাগল পালানোর জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এত ছাগলের বাসস্থান খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈজ্ঞানিক রূপে আবদ্ধ ও অর্ধ আবদ্ধ ছাগল পালন করা হয়। যাদের চারণভূমি বা বাধার কোন জমি নেই সেখানে আবদ্ধ পদ্ধতিতে ছাগল পালন করা হয়।
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন
ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালন এদেশে প্রাপ্ত প্রায় ২০ মিলিয়ন ছাগলের ৯৩ শতাংশ পালন করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ধরনের খামারিরা। অথচ বাবা দিয়ে পানিপোলের মধ্যে ছাগল পালন যতটা লাভজনক ও সহজ অন্যগুলো তেমন নয়। ছাগলের যেসব জাত আছে যেমন অ্যাংগোরা, বারবারি, বিটাল, যমুনাপারি, সুরতি, মারওয়ারি, মালবারি,গড্ডি, কাশ্মিরী, পশমিনা, ফিজি ও ইত্যাদি জাতের ছাগল হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে বাংলাদেশের ব্র্যাক বেঙ্গল বিশ্বমানের বিশ্বসেরা। এসব ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস দুধ চামড়া তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত মানের বলে স্বীকৃত। তাছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা অধিক এবং তারা দেশীয় জলবায়ুতে বিশেষভাবে উৎপাদন উপযোগী। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল গোশত ও চামড়া উৎপাদনকারী জাত হিসেবে বিশ্বাসী স্বীকৃত। এদের গড় ওজন ১৫-২০ কেজি। কখনো কখনো ৩০ থেকে ৩২ কেজি পর্যন্ত হয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশ সারা ভারতের পশ্চিমবাংলা আসাম ও অন্যান্য রাজ্যে পাওয়া যায়। আকারে ছোট ও বড় দুই রকমের হয় এজন্য বয়স্ক পুরুষ ও স্ত্রীসা ওজনের তারতম্য দেখা যায়। এদের ঘাড় এবং পেছনের অংশ উচ্চতায় প্রায় সমান থাকে। তবে এদের দুধ উৎপাদন ক্ষমতা তুলনামূলক কম। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, স্ত্রী ছাগল ৯ থেকে ১০ মাস বয়স হলে ২৫ জনের যোগ্য হয়। এরা ১৪ থেকে ১৫ মাস বয়সের প্রথম বাচ্চা প্রসব করে। বলা যায় বস্তুর জন্য ব্লাক বেঙ্গল সর্বশ্রেষ্ঠ তবে দুধের জন্য যমুনাপারি বারবারি ভালো।
এছাড়া বাড়িতে বা খামার ভিত্তিক কি ভাবে ফাউমি মুরগি পালন করে সফল ব্যবসায়ী ও লাভবান হবেন জানতে ভিজিট করুন ফাউমি মুরগি সম্পর্কে।
১০ টি ছাগল পালনে লাভকত?
ছাগলের তেমন খরচ হয় না বেশি জায়গায় প্রয়োজন হয় না। আর বছরের একটি ছাগল থেক দু বারে প্রায় ৩ থেকে ৪ করে বাচ্চা পাওয়া যায়। তাই ছাগল পালন খুব লাভজনক। সাধারণ থেকে 12 থেকে 15 মিনিট বয়সে প্রথম বাচ্চা দেয়। একটি শাড়ি বছরের দুইবার বাচ্চা প্রসব করলে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় ১টি ছাগী ২-৮ টি পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যেতে পারে। ২০ কেজি তৈরি ওজন সম্পূর্ণ একটি ছাগী থেকে কমপক্ষে 11 কেজি খাওয়ার যোগ্য মাংস এবং ১-১.৪কেজি ওজনের উন্নত মানের চামড়া পাওয়া যায়। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল চামড়া একটি উন্নত অতি মূল্যবান উপজাত। দেখা গেছে সেমি পদ্ধতিতে ২৫ টি শাকির খামার থেকে বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় বছরে ৭৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় বছরে ১ লক্ষ ২ হাজার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
ছাগলের প্রিয় খাবার কি
ছাগলের খাদ্য তালিকা হচ্ছে একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয় যে আমাদের সকলের জেনে রাখা উচিত। মূলত ছাগলের খাদ্য হচ্ছে প্রধান উৎপাদন ছাগলের লাভজনকভাবে উত্তোলন বৃদ্ধির জন্য। বয়স ভেদে সকলকে এক এক সময় এক এক রকম খাদ্য তালিকা অবলম্বন করে খাদ্য পরিমান করতে হয়। আর এর ফলে আমরা কম বেশি লাভজনকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারি আমাদের ছাগলের। আর এই জন্য আমাদের অবশ্যই ছাগলের খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ করতে হবে ছাগলকে।
ছাগলের খাদ্য তালিকা
বয়স অনুযায়ী আমরা ছাগলের কয়েকটি খাদ্য তালিকা তৈরি করতে পারি।
ছাগলছানা জন্ম নেওয়ার পর মায়ের দুধ ছাড়া পুরো মুহূর্ত পর্যন্ত।
মায়ের দুধ ছাড়ার পর পরিপূরক ভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য খাদ্য তালিকা।
প্রজননকালীন সময় খাদ্য তালিকা।
গর্ভ অবস্থায় থাকাকালীন খাদ্য তালিকা।
ছাগলছানা জন্ম নেওয়ার সময় মারতে ছাগলের খাদ্য
মাংস উৎপাদন করার জন্য খাদ্য তালিকা।
এগুলো হল ছাগলের বয়স অনুযায়ী খাদ্য কিভাবে প্রদান করবেন তার একটি নমুনা এবং সেই সাথে বয়সের ধারণা। বয়স অনুযায়ী আপনার সকলকে উপযুক্ত খাদ্য প্রদানের মাধ্যমে আপনি বেশি লাভবান হতে পারবেন। আপনি যদি ছাগল পালন করে লবণ হতে চান তাহলে অবশ্যই সঠিক কার্য প্রদান করুন আপনার ছাগলকে।
লেখাটি ভালো লাগলে একটি কমেন্ট করে শেয়ার দিয়ে আপনার আশেপাশের মানুষদের পড়ার সুযোগ করে দিবেন।
ধন্যবাদ।
এছাড়া বাড়িতে বা খামার ভিত্তিক কি ভাবে ফাউমি মুরগি পালন করে সফল ব্যবসায়ী ও লাভবান হবেন জানতে ভিজিট করুন ফাউমি মুরগি সম্পর্কে।
পাখি পালন করে সফল উদ্যগক্তা হাজারো বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে পাখি পালন সম্পর্কে
কবুতর পালনের গুরুত্ব জানতে ক্লিক করুন
৪ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে ব্রয়লার মুরগি পালনে এখন কোটিপতি ভিজিট করুন
এছাড়া আরো নতুন নতুন তথ্যের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করুন ফেসবুক পেজ লিংক
.jpg)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন